Unique Business Idea – ২০২৪ এ শুরু করুন এই ব‍্যবসা, মালামাল হয়ে যাবেন

দিন বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি এগোচ্ছে, সারা বিশ্বের খবর হাতের মুঠোফোনে। কিন্তু তারপরেও দেশ জুড়ে বেকারত্বের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শিক্ষা অর্জন করার পর একটা কাজের আশায় হাপিত‍্যেশ হয়ে বসে রয়েছেন বেকার যুবক-যুবতীরা। যদিও বা কোনো সংস্থায় একটা কাজ জোটানো যায়, সেই মাইনে দিয়ে পুরোপুরিভাবে সংসার প্রতিপালন করা সম্ভব হয় না। তাও আবার দেশের বিভিন্ন সংস্থায় দেখা যায়, মাস শেষ হলেও কর্মীদের মাইনে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক রকমের গা ছাড়া মনোভাব। মাস শেষ হয়ে যাওয়ার ৫ দিন, ১০ দিন পরে মাইনের টাকা হাতে পাচ্ছেন কর্মীরা। ফলে একদিকে যেমন কাজের অভাব (Unemployment) অন্যদিকে একটা সাধারন কাজ করেও নিজের সমস্ত চাহিদা পূরণ করা যায় না। আর তখনই মনে হয়, এর পাশাপাশি যদি একটা ছোটখাটো কোনো পার্টটাইম ব্যবসা (Part-time Business) বা কাজ করা যেত। কিন্তু মনে করলেই তো উপায় নেই। কিসের ব্যবসা করবেন, কোন ব্যবসা করলে মাসের শেষে আরো দুটো পয়সা পকেটে ঢুকবে? ব্যবসা মানেই তো মোটা পুঁজির বিনিয়োগ, আর এইরকম একের পর এক চিন্তা ভাবনা মাথায় ভিড় করতে থাকে। অনেকে হতোদ্যম হয়ে ব্যবসা করার আশাই ছেড়ে দেন। কিন্তু এবার এরকমই পথের সন্ধান দেওয়া হবে, যেখানে একটা চাকরির পাশাপাশি বেশ কিছু এক্সট্রা উপার্জনের (Extra Income) জন্য পার্ট টাইমে ব্যবসা করতে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, সেই সমস্ত ব্যবসার কিছু হাল হকিকত (Unique Business Idea)।

এই ব্যবসাগুলো করার জন্য কোথাও যেতে হবে না, মোটা পুঁজি বিনিয়োগের দরকার নেই, একেবারে ঘরে বসেই প্রযুক্তিকে একটু কাজে লাগিয়ে হাতের মুঠোফোন থেকেই ব্যবসাগুলি করে ফেলা সম্ভব। দেখে নেওয়া যাক কি সেই ব্যবসা (Profitable Online Business):

আরও পড়ুন »

১. ড্রপ শিপিং বিজনেস (Dropshipping Business):- নামটা অনেকের কাছে অপরিচিত ঠেকলেও একটু খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি সম্বন্ধে জানলেই আপনার কাছে একেবারে সহজ হয়ে যাবে। পাইকারি মার্কেট থেকে মাল কিনে নিয়ে এসে খুচরো দোকানে যেভাবে বিক্রি করা হয়, এই ব্যবসাও অনেকটা ঠিক সেই ধরনের। তবে সম্পূর্ণটাই হয় অনলাইনে বা টেকনোলজির উপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে একটি ই-কমার্স স্টোর (E-COMMERCE Store) তৈরি করা হয়। যেখানে নিজের পণ্য রাখা যায়, পাশাপাশি অন্য বিভিন্ন সংস্থার তৈরি করা পণ্য বিক্রি করা যায়। এই ড্রপশিপিং এ রিসেলিং এবং পাইকারির বিপরীতে ড্রপ শিপিং ইনভেন্টরি পরিচালনা ছাড়াই পণ্য বিক্রি করতে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যে সমস্ত বিক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করবেন, তাদের সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নিয়ে নেওয়া উচিত। যাতে নিজের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য পরবর্তীতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়। কারণ একটি কোম্পানি ম্যানুফ্যাকচারিং এবং শিপিং পরিচালনা করে থাকে। আর যদি অনলাইন এই ব্যবসায় নিজের মতো করে স্টোর তৈরি করে পণ্য বিক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে ড্রপ শিপিং ব্যবসা আগামী দিনে যথেষ্ট বড় মুনাফা দিতে পারে।

২. বুককিপিং বিজনেস (Book Keeping Business):- চাকরির পাশাপাশি যাদের ব্যবসা সংক্রান্ত একটু আইডিয়া আছে, তারা অনলাইনে কিংবা অফলাইনে অফিস খুলে এই বুককিপিং এর ব্যবসার পরিষেবা শুরু করে দিতে পারেন। এই বুককিপিং ব্যবসায় হিসেব রাখার ব্যাপারটা বাদ দিয়ে করা যাবে না। তাই যারা বিশেষ করে কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন, তারা জনপ্রিয়তার সঙ্গে এই ব্যবসা করে নিজেদের উপার্জন করতে পারবেন।

৩. ই-কমার্স প্ল‍্যাটফর্ম (Ecommerce Platform):- ঘরে বসে মুঠোফোনে যেকোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে গিয়ে অর্ডার করলেই ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর তরফে হাতের নাগালে সেই জিনিসটি পাওয়া যায়। ফলে ই-কমার্স প্ল‍্যাটফর্ম নিয়ে নতুন করে বলার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আর এই মুহূর্তে দেশজুড়ে ই-কমার্স প্ল‍্যাটফর্মের মাধ্যমে কেনাবেচার যে গতিপ্রকৃতি দেখা যাচ্ছে, তাদের ২০২৩ সালে যা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি, ২০২৪ সালে এই ব্যবসা জেট গতিতে বাড়তে চলেছে। চাকরির পাশাপাশি শপিফাইয়ের (Shopify) মত একটা ই-কমার্স Platform খুলতে পারেন। এই প্ল‍্যাটফর্মে বিভিন্ন স্টোর থেকে নিজস্ব সামগ্রী বিক্রি করা যাবে। পেমেন্টের জন্য প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে। আপনার তৈরি করা নির্দিষ্ট কোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এই ব্যবসায় প্রত্যেকটি বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন পাবে। এটা একটা হাবের মতো কাজ করবে। আর Shopify এই মুহূর্তে ই-কমার্স প্ল‍্যাটফর্মের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয় হতে চলেছে। তার কারণ ঘরে বসেই একেবারে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নিজের বৃহৎ ব্যবসার স্টোর তৈরি করা যাবে এবং সেখান থেকে  বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট মানের পণ্য বিক্রি করা যাবে। ফলে অনলাইনেই শপিফাই এর মত ই- কমার্স প্ল‍্যাটফর্ম তৈরি করার ব্যবসা আগামী দিনে যথেষ্ট মুনাফা দেখাতে চলেছে।

আরও পড়ুন » মহিলাদের জন্য চারটি ব্যবসার আইডিয়া, বাড়িতে বসে আয় করতে পারেন প্রচুর টাকা

৪. সোশ্যাল মিডিয়া বিজনেস (Social Media Business):- হাতের মুঠোফোনে দিনের একটা অধিকাংশ সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ গুজে বসে থাকেন না এরকম মানুষের খোঁজ পাওয়া মুশকিল। Facebook, X Handle, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব থেকে শুরু করে যত নিত্য নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল‍্যাটফর্ম আসছে প্রতিটিতেই মানুষ আগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। আর এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল‍্যাটফর্মগুলোই আয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, এই অনলাইন প্ল‍্যাটফর্মগুলোতে নিজের পছন্দসই ভিডিও তৈরি করে আপলোড করে উপার্জন করাটা এখন প্রায় ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে যে বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে প্রচার করার ক্ষেত্রে এগোবেন সেই বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। অনলাইনে নাচ, গান, আবৃত্তি, যোগাসন, ফিটনেস, খেলাধুলা, অনলাইন কোচিং, কুকিং, Motovlogging, ট্রাভেল ব্লগিং থেকে শুরু করে সবকিছুই করা যেতে পারে। ফেসবুক, X Handle, instagram যেমন রয়েছে, সেরকম ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করে সেখানে নিয়মিত এই ধরনের ভিডিও আপলোড করলে যেমন একদিকে দর্শকের সংখ্যা বাড়তে থাকবে, ঠিক পাশাপাশি ইউটিউব থেকেও উপার্জনের পথ প্রশস্ত হবে। আর ২০২৩ সালে যা করা সম্ভব হয়নি ২০২৪ এ সারা বছরজুড়ে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার বুম আসতে চলেছে। ফলে যারা কাজের পাশাপাশি পার্টটাইমে কোনো ব্যবসা করার কথা ভাবছেন, তারা এই মুহূর্তে অনলাইনে এই ধরনের ব্যবসাগুলোর (Online Business) দিকে নজর দিতেই পারেন। সেক্ষেত্রে চাকরির মুখাপেক্ষী হয়ে নয়, সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ব্যবসা করে নতুন বছরে আপনার পকেটে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢুকতে পারে।
Written by Rajib Ghosh.

🔔 বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রকল্প, চাকরি, শিক্ষা ও স্কলারশিপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট মিস করতে না চাইলে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপটেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন –

Leave a Comment

JoinJoin